Health Problems

এইডস

লক্ষণ ও উপসর্গঃ
১। ত্বকে ক্ষত কিংবা গোটা ওঠা, বিশেষত কাপোসি সারকোমায় রক্তবর্ণ সংক্রামক ঘা।
২। রক্তের সাদা কোষ তৈরি করে যে গ্রন্থিগুলো, সেগুলোর ফুলে ওঠা, বিশেষত গলার পেছনে কিংবা বগলে কিংবা যৌনাঙ্গে (শিশ্নে)।
৩। প্রায়ই ঠান্ডা লাগা, ঠান্ডার ফলে সৃষ্ট ঠোসা, মুখে ছত্রাকবাহিত ঘা বা ক্ষত হওয়া, কিংবা ইস্টের ঘা হওয়া।
৪। ওজন কমে যাওয়া, কাশি এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া।
৫। অবসাদ এবং অসুস্থতা বোধ।
৬। প্রায়ই ডায়রিয়া এবং কোষ্ঠকাঠিন্যে আক্রান্ত হওয়া।
৭। জ্বর, কাঁপুনি এবং রাত্রিকালীন ঘাম।
৮। গলা ফুলে ওঠা এবং গলা ব্যথা।
৯। বিভ্রান্তি, স্মৃতিশক্তির বিলোপ এবং ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন।

কী করা উচিতঃ
১। যদি আপনার জীবনসঙ্গী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকে কিংবা আপনার মধ্যে যদি এই রোগের লক্ষণ দেখা যায়, সেক্ষেত্রে অনতিবিলম্বে এইচআইভি এন্টিবডি টেস্ট করুন। যতো দ্রুত জানবেন যে ভাইরাস আপনার দেহে সংক্রামিত হয়েছে, ততই সম্ভাবনা বাড়বে যে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সময়টাও আপনার ক্ষেত্রে ততই দীর্ঘ হবে। এবং ৩-৬ মাসের মধ্যে আবারও আপনার এন্টিবডি টেস্ট করা উচিত; এই ভাইরাসের বেড়ে ওঠার সময় প্রয়োজন হয়।
২। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিরাপদ যৌন মিলনের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখুন; আপনি এইচআইভি-এর অন্যান্য সমস্যাগুলোতেও আক্রান্ত হতে পারেন, কিংবা অন্যকেও এই রোগে আক্রান্ত করতে পারেন; যদি সেক্ষেত্রে আপনার মধ্যে কোন লক্ষণ নাও থাকে তারপরও।

কখন ডাক্তার দেখাবেনঃ
যদি আপনার এইচআইভি কিংবা এইডস থাকে এবং আপনার লক্ষণগুলো খারাপ হতে থাকে, বা নতুন লক্ষণের সূজনা হয়।

কীভাবে প্রতিরোধ করবেনঃ
১। নিরাপদ যৌনমিলনের চর্চা করুন- কেবল একজন সঙ্গী যার প্রতি আপনার আস্থা রয়েছে যে সে এই ভাইরাসে আক্রান্ত নয় তার সাথে যৌনমিলনই সবচেয়ে নিরাপদ। যদি আপনার একাধিক ব্যক্তির সাথে যৌন সম্পর্ক থাকে, সেক্ষেত্রে কনডম ব্যবহার করুন, এমন কি যখন ওরাল সেক্স (মুখদ্বারা কৃত যৌন চর্চা) করবেন তখনও। ব্যবহৃত কনডম কখনই পুণর্ব্যবহার করবেন না।
২। যে মানুষের যৌন জীবন সম্পর্কে আপনার কোন ধারণা নেই বা যে এইচআইভি-এর পরীক্ষা করতে আগ্রহী নয় তার সাথে অনিরাপদ যৌনমিলনে কখনই অগ্রসর হবেন না।
৩। এ্যানাল সেক্স (নিতম্ব দিয়ে যৌন চর্চা) থেকে সবসময়ই নিজেকে বিরত করুন, কেননা রক্তপাতের কারণে এক্ষেত্রে ঝুঁকি থাকে বেশি।
৪। জড়িয়ে ধরা, চুম্বন করা (শরীরের যেকোন অংশে), ম্যাসাজ করা এবং স্পর্শ করা নিরাপদ- এতে কোন ভয় নেই।
৫। নেশাদ্রব্য বা ওষুধপত্র ইঞ্জেকশানের মাধ্যমে শরীরে নিতে হলে একই সূঁচ দিয়ে এ কাজ করবেন না, সূঁচ অবশ্যই বদলে নিবেন। সবচেয়ে ভালো হয় প্লাস্টিকের ডিসপোসেবল সিরিঞ্জ ব্যবহার করা এবং ব্যবহার শেষে সিরিঞ্জটি নষ্ট করে নিরাপদ স্থানে ফেলে দেয়া।
৬। অন্য মানুষের রক্তের সংস্পর্শ থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।
৭। যদি তারপরও আপনি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে বা অনিরাপদভাবে আপনার যৌনমিলনের কার্যকলাপগুলো চালিয়ে যেতে থাকেন, সেক্ষেত্রে প্রতি ৩-৬ মাস অন্তর অন্তর আপনাদের দুজনেরই চেকআপ করানো উচিত।




[ Health Problems ]      [ Return to List ]